প্রাণিকুলের প্রতি মানবিক দায়িত্ব ও সাম্প্রতিক বিতর্ক
প্রাণিকুলের প্রতি মানবিক দায়িত্ব ও সাম্প্রতিক বিতর্ক
আমরা মানুষ—নিজেদের সভ্য বলে দাবি করি, কিন্তু কতটা সত্যিই সভ্য? বহুসময় আমরা ধরে নিই পৃথিবী যেন শুধু মানুষের বসবাসের জন্যই তৈরি, আর বাকি প্রাণীকুলের অস্তিত্ব যেন কেবল আমাদের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। মানুষের সুবিধা যেখানে, সেখানে প্রাণীদের অধিকার চাপা পড়ে যায়, যেন তাদের অনুভূতি, ভয়, বেদনা কিছুই নেই।
সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জনবহুল এলাকায় পথকুকুর রাখার বিষয়ে একটি নির্দেশ জারি করেছে, যাতে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কুকুরদের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের লক্ষ্য জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করা হলেও, বহু প্রাণিপ্রেমী ও সমাজকর্মী এটিকে প্রাণীর স্বাভাবিক অধিকার সীমিত করার একপাক্ষিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মানুষ নিজের সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে সহজ পথ বেছে নিচ্ছে, প্রাণীদের স্থানচ্যুত করে দেওয়া।
মানুষ যেভাবে নিজের ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাণীদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে, তাতে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উঠছে। শহরের প্রতিটি প্রাণীই আমাদের মতোই প্রকৃতির অংশ। তাদেরও খাবার, আশ্রয়, নিরাপত্তার অধিকার আছে। মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এর কারণে পথকুকুরের বা অন্যান্য প্রাণীদের সমস্যা তৈরি করছি। এর দায় কি প্রাণীদের?
প্রতিবাদকারীরা বলছেন, সমাধান কখনোই উচ্ছেদ বা নির্বাসন নয়; প্রয়োজন সুপরিকল্পিত জন্মনিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, সচেতনতা এবং মানুষের সহাবস্থানের মানসিকতা। কুকুরদের তাড়িয়ে দেওয়া সমস্যার মূলে পৌঁছায় না, বরং তাদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
একটি সভ্য সমাজ কেবল মানুষের জন্য নয় প্রাণীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাও সমানভাবে রক্ষা করতে হয়। মানুষ যদি সত্যিই বুদ্ধিমান হয়, তবে প্রকৃতির প্রতিটি জীবের জন্য স্থান রেখে এগোতেই হবে। একতরফা নিয়ম নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং সুষম সমাধান।

